বিশিষ্ট লোকজীবন বিশেষজ্ঞ ও লোকশিক্ষক ইমদাদুল হক আনুভাইয়ের প্রয়াণঘটনায় তাঁর স্মরণে গত ১৫ আগস্ট ২০০৯ বিকাল ৩টায় এমএসএস কনফারেন্স কক্ষে (সেল সেন্টার, পান্থপথ, ঢাকা) এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন আনুভাইয়ের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সহকর্মী ও সুহৃদ জাহিদ হোসেন এবং জিএসএস-এর সহকর্মীবৃন্দ যথা আলাউদ্দিন মোল্লা, জ্যোতি চট্টোপাধ্যায়, এএফএম রেজাউল করিম, ডা. ইকবাল হোসেন, গৌতম সান্যাল, আনসার আলী মল্লিক রাজ, মীর মুর্তজা আলী বাবু, অরুণ বসু, অরিজিৎ রায়, বিপ্লব বালা, পীযুষকান্তি কুণ্ডু, মুজিব মেহদী, মনোয়ার মোস্তফা, পুলক রাহা, ইয়াসিন আরাফাত, অলকা নন্দিতা, তমিজউদ্দিন তমাল, বেনজির আহমেদ, হাসান আলী, চন্দন লাহিড়ী, মেহরাব উল গণি, কৃষ্ণা চট্টোপাধ্যায়, রাজীব নূর, আতাউর রহমান চঞ্চল, এরশাদুজ্জামান, ফাহমিদা হক, আবুল বাশার ভুঁইয়া, শিবশঙ্কর ভৌমিক প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন জ্যোতি চট্টোপাধ্যায়।সভার শুরুতে অরুণ বসুর আহ্বানে আনুভাই স্মরণে সকলে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করেন। এরপর আনুভাইয়ের ওপর একটি লেখা পাঠ করেন জ্যোতি চট্টোপাধ্যায়। পরে একে একে প্রায় সবাই আনুভাইয়ের কর্মময় জীবন, লোকজ্ঞান ও সমাজ ধারণা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া, আড্ডা ও গল্পের ধরন এবং তাঁর সাথে সকলের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আলোচনা করেন।
সকলে বলেন, আনুভাই ছিলেন গভীর জীবনবোধের অধিকারী একজন স্বশিক্ষিত লোকজীবন বিশেষজ্ঞ। তিনি সারাজীবন জনগণের কাছ থেকে শিখেছেন আর তা অননুকরণীয় ভঙ্গিতে অন্যদের শিখিয়েছেন। একজন উন্নয়নকর্মী কীভাবে শ্রমজীবীদের উদ্বুদ্ধ ও সংগঠিত করে তাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সহায়তা করতে পারেন, তার দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন আনুভাই।
তাঁরা বলেন, তিনি ছিলেন একাধারে সমাজপণ্ডিত, শিক্ষক, সংগীতজ্ঞ-অভিনেতা-গল্পকার, সজ্জন, বন্ধুবৎসল ও আন্তরিক আড্ডাশিল্পী। তাঁর প্রশিক্ষণ পেয়েই জিএসএস-এর সাড়ে পাঁচ হাজার কর্মী বিশেষ উদ্দীপনা নিয়ে আনন্দের সাথে কাজ শুরু করে। এছাড়াও হাজার হাজার সংগঠিত শ্রমজীবী সমাজপ্রগতির মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে উন্নয়ন আন্দোলনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। পড়াশুনা, মতবিনিময়, আড্ডা, গল্প, গান এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ও যে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের প্রক্রিয়া হতে পারে উন্নয়ন সেক্টরে তার প্রথম দৃষ্টান্ত তিনিই স্থাপন করেছিলেন। মাত্র তিনদিন-তিনরাতের প্রশিক্ষণে সক্রিয় মানুষ তৈরির কাজ করতেন তিনি। সংস্থার হাজার হাজার কর্মী ও অভীষ্টজন তাঁকে কোনো-না-কোনোভাবে আজো মনে রেখেছেন। সকলে জানান যে, আনুভাইকে নিয়ে তাদের ব্যক্তিগত স্মৃতি আমৃত্যু অমলিন থাকবে।
আলোচকগণ বলেন, জিএসএস-এর ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি ঢুকে পড়া ও অন্যান্য কারণে ধ্বংস না-হওয়া পর্যন্ত (১৯৯৯) তিনি এর প্রশিক্ষণ বিভাগের পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। শেষের দিকে সংস্থার চিন্তা ও কাজের ধরন পরিবর্তিত হওয়ায় তিনি হয়ত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের উপেক্ষার শিকার হয়েছিলেন বলে কেউ কেউ ধারণা প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, গণসংগঠন সদস্যদের তিনি বলতেন, শ্রমজীবীর সংগঠন গড়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় সহায়তার পরিবর্তে কখনো যদি সংস্থা সুবিধাবাদী ভূমিকা নেয় কিংবা ব্যক্তি অথবা কয়েকজনের জন্য সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করে তাহলে তিনি সংস্থা ত্যাগ করবেন। তাঁর কথা তিনি রেখেছিলেন।সভায় সর্বসম্মতিক্রমে কিছু সিদ্ধান্ত হয়, সেগুলো নিম্নরূপ :
- আনুভাইয়ের প্রেরণাময় জীবন ও শিক্ষাকে মনে রাখতে একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করা হবে। তাই তাঁর সম্পর্কে যেকোনো লেখা (স্মরণ, অভিজ্ঞতা, স্মৃতি, গল্প) ও ছবি সংগ্রহ করা হবে। লেখা ও ছবি আগামী একমাসের মধ্যে জ্যোতি চট্টোপাধ্যায়, ই-মেইল : jchatto@gmail.com (ফোন : ০১৭১১২০৮০০০)-এ অথবা ডাকযোগে আইইডি, ১৩/১৪ বাবর রোড, ব্লক বি, মোহাম্মদপুর, ঢাকা ১২০৭ ঠিকানায় পাঠাতে হবে। সম্পাদিত স্মারকগ্রন্থটির ছাপার খরচের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নেয়া হবে।
- আনুভাই স্মরণে কয়েকদিনের মধ্যে একটি ব্লগ খোলা হবে। এজন্য মুজিব মেহদী উদ্যোগ ও দায়িত্ব নেবেন, জ্যোতি চট্টোপাধ্যায় তাঁকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করবেন।
- ২১ আগস্ট ২০০৯ খুলনার ফুলতলায় আনুভাই স্মরণে দিনব্যাপী কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে-- সকালে আনুভাইযের বাড়িতে মিলাদ, কাঙালিভোজ ও মতবিনিময় এবং বিকালে আসাদ-রফি লাইব্রেরিতে স্মরণসভা। এ আয়োজনে ঢাকার সহকর্মীদের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করা হবে এবং এজন্য যার পক্ষে যা সম্ভব তা ১৯ আগস্টের মধ্যে জ্যোতি চট্টোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছাতে হবে। ২০ আগস্ট তা ফুলতলায় সুলতানভাইয়ের কাছে পাঠানো হবে। অন্য কর্মীদের সহায়তা খুলনার হালিমভাই ও খোকন-এর কাছে পৌঁছানো হবে।
- আগামী ২৮ আগস্ট ২০০৯ সকাল ১০টায় ঢাকার সহকর্মীদের দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হবে।





No comments:
Post a Comment