পরলোকগত বিশিষ্ট লোকজীবন বিশেজ্ঞ ও লোকশিক্ষক ইমদাদুল হক আনুভাইয়ের স্মরণে ২১ আগস্ট ২০০৯ খুলনার ফুলতলায় দিনব্যাপী কর্মসূচি নেয়া হয়েছিল। তার মধ্যে ছিল-- সকালে আনুভাইযের বাড়িতে মিলাদ, কাঙালিভোজ, অংশগ্রহণকারীদের সাথে মতবিনিময় এবং বিকেলে আসাদ-রফি পাঠাগারে স্মরণসভা।
অনুষ্ঠানমালায় উপস্থিত ছিলেন আনুভাইয়ের ছোটভাই ফজলে খোদা বাচ্চুসহ পরিবারের সদস্যবৃন্দ, গ্রামবাসী, বাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সহকর্মী ও সুহৃদ বাবলু, ইদ্রিস, অধ্যাপক শফিউল্লা সরদার, আনসার মোল্লা এবং জিএসএস-এর সহকর্মী আলাউদ্দিন মোল্লা, জ্যোতি চট্টোপাধ্যায়, ডা. ইকবাল হোসেন, আনসার আলী মল্লিক রাজ, সুলতান আহমেদ, পীযুষকান্তি কুণ্ডু, আলাউদ্দিন আলী, আবদুল হালিম, খায়রুজ্জামান খোকন, নিরঞ্জন সরকার, মাহবুবুর রহমান বাচ্চু, বীথিকা সরকার, মোজাম্মেল হক, অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর, কৃষ্ণপদ, অ্যাডভোকেট আখতারুজ্জামান, নকীব আবদুস সালাম, মো. সেলিম, আবদুস সালাম, উৎপল বিশ্বাস, মান্নান সরদার, সিরাজুল ইসলাম, নুর ইসলাম, আবদুস সাত্তার, গিয়াসউদ্দিন, অরুণা সরকার, আবুল কালাম আজাদ, শরাফত হোসেন, হাসি, আবদুর রাজ্জাক, রেজোয়ান আহমেদসহ আরো অনেকে।
পাঠাগারে স্মরণসভা
পাঠাগারে স্মরণসভা
২১ আগস্ট ২০০৯ বিকাল ৬টায় ফুলতলা আসাদ-রফি পাঠাগারের উদ্যোগে পাঠাগার চত্বরে আনুভাই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আনুভাইয়ের ফুলতলা ও খুলনাস্থ শত শত রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক ও উন্নয়ন সহকর্মী, ভক্ত ও গুণগ্রাহী উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন বিশিষ্ট রাজনীতিক ও সমাজনেতা কমরেড হাফিজুর রহমান ভূঁইয়া।
সভায় আনুভাইযের জীবন-চিন্তা-কর্ম ও আনুভাই-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুজ্জামান মোল্লা, অধ্যাপক অচিন্ত্য ভৌমিক, আলাউদ্দিন মোল্লা, রূপান্তরের নির্বাহী প্রধান স্বপন গুহ, অ্যাডভোকেট আবদুল্লা হোসেন বাচ্চু, অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা, ফজলে খোদা বাচ্চু, সংগীতশিল্পী ও শিক্ষক সন্ধ্যারানী, মাহবুবুর রহমান বাচ্চু, অ্যাডভোকেট আখতারুজ্জামান, কবীর, আবদুল হানিফ, আনসার আলী মোল্লা, অধ্যাপক শফিউল্লা সরদার ও জ্যোতি চট্টোপাধ্যায়।
আলোচকরা বলেন, ইমদাদুল হক আনু ছিলেন একজন স্বশিক্ষিত লোকজীবন বিশেষজ্ঞ। তিনি সারাজীবন জনগণের কাছ থেকে শিখেছেন আর তা সমাজের ছাত্র-যুব-উন্নয়ন কর্মীদের শিখিয়েছেন। তিনি ছিলেন একাধারে সমাজবিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, সংগীতজ্ঞ-অভিনেতা-গল্পকার, সজ্জনব্যক্তি, বন্ধুবৎসল ও আন্তরিক আড্ডাশিল্পী। তিনি বিভিন্নসময়ে প্রগতিশীল রাজনৈতিক আন্দোলন, সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন, সংস্কৃতি আন্দোলন, স্থানীয় ও জাতীয় সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সর্বশেষ ফুলতলার পানি আন্দোলনে মূখ্য ভূমিকা রাখেন। সন্দীপন ও শতদল সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ খুলনার সংস্কৃতি আন্দোলনে তাঁর অন্যতম ভূমিকা ছিল। তিনি একজন আদর্শ প্রশিক্ষক ছিলেন। পড়াশুনা, মতবিনিময়, আড্ডা, গল্প, গান, অভিজ্ঞতা বিনিময় যে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের প্রক্রিয়া হতে পারে উন্নয়ন সেক্টরে তার প্রথম দৃষ্টান্ত তিনি রেখেছেন। মাত্র তিনদিনের প্রশিক্ষণে সক্রিয় মানুষ তৈরির কাজ করতেন তিনি, তাই গণসাহায্য সংস্থার হাজার হাজার কর্মী ও অভীষ্টজনসহ সকলে তাই তাঁকে কোনো-না-কোনোভাবে মনে রেখেছেন। তাঁর অকালপ্রয়াণে ফুলতলা এলাকার সক্রিয় নাগরিকরা একজন উদ্যোগী বন্ধু হারিয়েছে। আর সংস্কৃতি-রাজনীতি-উন্নয়নকর্মীরা একজন শিক্ষক ও জনউদ্যোগের প্রেরণাদাতাকে হারিয়েছে।
আলোচকরা বলেন, ইমদাদুল হক আনু ছিলেন একজন স্বশিক্ষিত লোকজীবন বিশেষজ্ঞ। তিনি সারাজীবন জনগণের কাছ থেকে শিখেছেন আর তা সমাজের ছাত্র-যুব-উন্নয়ন কর্মীদের শিখিয়েছেন। তিনি ছিলেন একাধারে সমাজবিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, সংগীতজ্ঞ-অভিনেতা-গল্পকার, সজ্জনব্যক্তি, বন্ধুবৎসল ও আন্তরিক আড্ডাশিল্পী। তিনি বিভিন্নসময়ে প্রগতিশীল রাজনৈতিক আন্দোলন, সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন, সংস্কৃতি আন্দোলন, স্থানীয় ও জাতীয় সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সর্বশেষ ফুলতলার পানি আন্দোলনে মূখ্য ভূমিকা রাখেন। সন্দীপন ও শতদল সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ খুলনার সংস্কৃতি আন্দোলনে তাঁর অন্যতম ভূমিকা ছিল। তিনি একজন আদর্শ প্রশিক্ষক ছিলেন। পড়াশুনা, মতবিনিময়, আড্ডা, গল্প, গান, অভিজ্ঞতা বিনিময় যে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের প্রক্রিয়া হতে পারে উন্নয়ন সেক্টরে তার প্রথম দৃষ্টান্ত তিনি রেখেছেন। মাত্র তিনদিনের প্রশিক্ষণে সক্রিয় মানুষ তৈরির কাজ করতেন তিনি, তাই গণসাহায্য সংস্থার হাজার হাজার কর্মী ও অভীষ্টজনসহ সকলে তাই তাঁকে কোনো-না-কোনোভাবে মনে রেখেছেন। তাঁর অকালপ্রয়াণে ফুলতলা এলাকার সক্রিয় নাগরিকরা একজন উদ্যোগী বন্ধু হারিয়েছে। আর সংস্কৃতি-রাজনীতি-উন্নয়নকর্মীরা একজন শিক্ষক ও জনউদ্যোগের প্রেরণাদাতাকে হারিয়েছে।
সভাপ্রধানের ভাষণে হাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ইমদাদুল হক আনুর অকালপ্রয়াণে এ অঞ্চলের মানুষ একজন উদ্যোগী সমাজকর্মী ও শিক্ষককে হারিয়েছে। ষাটের দশক থেকে তিনি সকল সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে যুক্ত ছিলেন। সম্প্রতি খুলনা সিটি করপোরেশনের জন্য ফুলতলা থেকে পাইপে করে পানি নেয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগঠনে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা নিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এ পানি খুলনায় গেলে ফুলতলায় মরুকরণ প্রক্রিয়া শুরু হবে, তাই তা ঠেকাতে হবে। তিনি ছিলেন মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার সক্ষমতাসহ সচেতন কর্মী তৈরির যথার্থ কারিগর। কয়েকদিন আগে তিনি এ অঞ্চলে আরো প্রগতিশীল, সমাজ ও শ্রেণি সচেতন কর্মী তৈরি করতে স্বেচ্ছায় প্রশিক্ষণের দায়িত্ব নিতে চেয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে আমরা তা থেকে বঞ্চিত হলাম।
মিলাদ শেষে উপস্থিত সকলের মধ্যে পর্যালোচনার ভিত্তিতে এবং স্মরণসভায় আলোচনার মাধ্যমে কয়েকটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- আনুভাইয়ের প্রেরণাময় জীবন ও শিক্ষাকে মনে রাখতে একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করা হবে। তাই তাঁর সম্পর্কে যেকোনো লেখা (স্মরণ, অভিজ্ঞতা, স্মৃতি, গল্প) ও ছবি সংগ্রহ করা হবে। লেখা ও ছবি আগামী একমাসের মধ্যে জ্যোতি চট্টোপাধ্যায়, ই-মেইল : jchatto@gmail.com (ফোন : ০১৭১১২০৮০০০)-এ অথবা ডাকযোগে আইইডি, ১৩/১৪ বাবর রোড, ব্লক বি, মোহাম্মদপুর, ঢাকা ১২০৭ ঠিকানায় পাঠাতে হবে। সম্পাদিত স্মারকগ্রন্থটি ছাপার খরচের জন্য সহায়তা নেয়া হবে।
- আনুভাই স্মরণে কয়েকদিনের মধ্যে একটি ব্লগ খোলা হবে। এজন্য ঢাকা থেকে মুজিব মেহদী উদ্যোগ ও দায়িত্ব নেবেন, সকলে তাঁকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করবেন।
- সম্ভব হলে পাঠাগারে আনুভাইয়ের একটি আবক্ষ মূর্তি স্থাপন করা হবে।
- প্রতি বছর ১০ আগস্ট আনুভাইকে স্মরণ করতে ফুলতলায় তাঁর বাড়িতে সুহৃদ-সম্মিলন ও পাঠাগারে স্মরণসভার আয়োজন করা হবে।








No comments:
Post a Comment